তত্ত্ব

করোনা আসল আর হুজুরগো কেরামতি বাড়ল।আযান তত্ত্ব, স্বপ্ন তত্ত্ব,থানকুনি পাতা তত্ত্ব, দিলো ১৪০০ বছর আগের তত্ত্ব কত তত্ত্বই না বের হলো।আসলে কি যার যেই সামর্থ্য।তাদের আছেই এই সামর্থ্য তাই দিয়েছে।তারা তো আর হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন এর বিক্রিয়া তত্ব বুঝে না, না মানে পানি পান করেন কিন্তু পানিতে কি আছে তা দেখেন না।দেখতে চান না।পানি তো সহজ জিনিস পান করি যত ইচ্ছে তৃষনা মিটে গেলো আর তাতেই শেষ।আল্লাহর নিয়ামত আল্লাহ দিছে।এটা বলা সহজ।কিন্তু পানিকে ভাংগা যায় ভাংগলে দুটা পদার্থ পাওয়া যায়।মৌলিক পদার্থ আবার ১১৮টি।এরা আবার পরষ্পর যুক্ত হয়ে যৌগিক পদার্থ গঠন করে যেমন পানি এগুলো অনেক কঠিন তাই আল্লাহ দিছে বললে সহজ হয়ে যায় তা নিয়ে আর চিন্তা করতে হয় না ।আগেই নাকি বলে গেছে,আগেই নাকি পুর্বাভাস ছিল,আগেই নাকি হাতধোয়ার কথা ছিল,আগেই নাকি সব লিখা ছিল।করোনার কথা নাকি আগেই কেউ বলে গেছে নামসহ।ভাইরে এত দিন কি করছেন আগে থেকেই ঔষধ তৈরির কাজ শুরু করেন নি কেন? নাকি মানুষ মরার আনন্দ(অন্য ধর্মের) আপনাকে এতটাই আনন্দিত করে যে আপনি সব ভুলে গেছেন।বাহবা দিচ্ছিলেন, কেউ কেউ হাত তালি দিচ্ছিলেন,তৃপ্তির ঢেকুর দিচ্ছিলেন।আমাদের কিছু হবে না মুসলমানদের কিছু হবে না।ভাইরাসের তো চোখ, মুখ,নাক আছে যে সে চিনতে পারে কে মুসলমান, কে হিন্দু,কে খ্রিষ্টান, কে বৌদ্ধ।তার তো এই জ্ঞান নাই।চিন্তা করার ক্ষমতা নাই।সে অনুকূল পরিবেশ পাইলেই সে নিজের বাসস্থান মনে করে আর সেখানেই বসবাস শুরু করে।সত্যিকারের ফাইট তো করে আমাদের শরীর।সেও তো বুঝতে পারে না আসলে হচ্ছেটা কি? সব শেষ, গজব শুরুর হইয়া গেছে।এখন যখন আমাদের দেশে বিশেষ করে মুসলিম দেশে ভাইরাস সংক্রমন হলো তখন সুর পাল্টাই গেল, তখন নতুন তত্ব, দেশের যে অবস্থা আল্লাহর গজব শুরু হইছে।দেশে অনাচারে ভইরা গেছে,ছেলে মেয়েরা যেই পোষাক পড়ে লাজ শরম এর মাথা গেছে,নারীদের পর্দা হয় না, তার মানে গজব তত্ব।তাতেই শেষ হয়ে যায় নাই।ধুয়া তুলসিপাতা হয়ে যাই।বেহেস্তের টিকেট টা মনে হয় কনফার্ম কইরা ফেলছে।আজকাল তো এরকমটাই মনে করে অনেকে। এমনভাবে কথা বলে একমাত্র নেক বান্দা সেই আছে। কথায় কথায় মানুষকে নাস্তিক উপাধি দেয়ার দায়িত্ব নিয়ে বসে আছে।মনে হয়ে বেতনভুক্ত না করলে চাকরী থাকব না।দোয়া শুরু হয়ে গেছে করোনার দোয়া।দিনে দশবার, বিশবার যে যত বেশি পড়তে পারি তাতে তত তাড়াতাড়ি রোগমুক্তি লাভ করতে পারব, মানে শুরু হল দোয়া তত্ব।ভাইরে এতদিন বলা হইছে তারা কত কিছু খায়,শুকর,কুকুর,মাকড়সা, বিচ্ছ্যা,বাদ নাই কোন কিছু দুনিয়ার তাবত জিনিস তারা খায় তাই তাদের হয়েছে যত হারাম জিনিস তারা খায় তাই তাদের হয়েছে।ভাইরে এটা হারাম এর বিষয় না। আমাদের শরীর কিন্তু হারাম হালাল বুঝে না।সে কোনটা গরু,কোনটা শুকর,কোনটা বাদুর,কোনটা ব্যাংগ,কি আলু,কি পটল,কি ঢেড়স সে কিছুই চিনে না।সে চিনে আমিষ, প্রোটিন,শর্করা, খনিজ।সুতরাং আমরা যখন খাই তখন ঐ খাবার থেকে শরীর এগুলো গ্রহন করে অর্থাৎ তার প্রয়োজনীয় অংশটা গ্রহন করে আর অপ্রয়োজনীয় অংশটা বের করে দেয়।আর এভাবেই শরীর তার জৈবিক কাজগুলো করে থাকে।তাই বলা যাবে না যে আমারা গরুর মাংস খাই তাই ঠিক, তাই ভাল।গরূর মাংস খেয়েও কিন্তু অনেকে রোগাক্রান্ত হয়েছে যেমন গোদরোগ। আমরা যেমন কিছু অসুখ বহন করি, তেমনি পৃথিবীর সব প্রানীই কিছু না কিছু অসুখ বহন করে থাকে।আর করোনাও এমনি একটা অসুখ কেউ না কেউ এটা বহন করছিল।যেইটা তার জন্য ক্ষতিকর ছিল না।তার শরীর স্বাভাবিক অসুখের মতই বহন করে আসছিল।আর শারীরীক গঠনের উপর ভিত্তি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়ে থাকে।যেই মাত্র অসুখটা মানুষের শরীরে প্রবেশ করল তখনই আচমকা সব এলোমেলো করে দিল।শরীর তার সিগনাল দিতে শুরু করল কারন আমাদের শরীরের সাথে আগে কখনো এই ভাইরাসের পরিচয় হয়নি।তো যা হবার তাই হলো কেউ ফাইট করলো আর কেউ ব্যার্থ হলো।আর এ নিয়ে কি হলো রীতীমত ধর্মযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো কে মুসলিম আর কে অমুসলিম ।অমুসলিমদের গোষ্ঠি উদ্ধার শুরু হয়ে গেল।আর তাদের দায়িত্ব নিল কতিপয় মুসলিম নামধারী কতিপয় মানুষ যারা ইসলাম তো নয়ই বরং ইসলামের ক্ষতি করে চলছে।কথায় কথায় ফতুয়া দিয়ে বসে।হাদীস কোরানের দোহাই দেয়।আরে আমাদের নবী করীম (সা:) আজ যদি বেচে থাকতেন তাহলে সবার আগে তাদের পাশে এসে দাড়াতেন।তাদের সাহায্য সহযোগীতা করতেন। আর কতিপয় নামধারী মুসলমানরা তাদের অসুখে খুসি হয়,হাসি ঠাট্রা করে।হায় সেলুকাস।

মন্তব্যসমূহ